কবি আহসান হাবীবের ইচ্ছে কবিতাটা কে না পড়ছেন! কবিতায় কবি মনা'র মনের মাঝে বাস করা ইচ্ছে গুলোকে অনেক সুন্দর করে উপস্থাপন করেছেন। মনা বিলের ধারে যাবে। ঘাস কাটবে। সে ঘাস বিক্রি করবে। চিকন সুতার জাল কিনবে। জাল দিয়ে নদীতে মাছ ধরবে। সে মাছ বাজারে নিয়ে বিক্রি করবে। তারপর...। বোনের জন্য পাটের শাড়ি কিনবে। আর মার জন্য কিনবে রঙিন হাঁড়ি।
মনা তখন তার ইচ্ছে গুলোর পূরণ করতো কিনা জানা যায়নি। কিন্তু বর্তমানে যেহেতু বসবাস তাই বর্তমানটাকে খুব কাছে থেকে দেখা হয়।
এখন আর মনা ঘাস কাটতে বিলের ধারে যায়না। যায় চুপি চুপি মনি'র সাথে কথা বলতে। নদীর বাঁকেও যায়, তবে মনি'কে নিয়ে নৌকায় ঘুরতে। এখন মনা নিয়মিত বাজারে যায়। মাছ বিক্রি করতে নয়। স্কুলের গেটে দাঁড়াতে। বড় হয়ে এখন আর মনা'রা বোনকে শাড়ি দিতে চায়না। আর রঙিন হাড়ির দিনতো এখন শেষ। সুতরাং মাকেও এখন আর কিছু দেয় না। এখন মনা সব মনি'কে দেয়। মাসে ২/৩টি গিফট, স্ক্র্যাচ কার্ড। না দিলে আর নিজের ইজ্জতটা টিকে না। মনি'কে নিয়ে একটা চাইনিজ অথবা একটা ভালো হোটেলে খাওয়া, একটু ঘুরতে যাওয়া... ইত্যাদি ইত্যাদি।
আবার ব্যতিক্রমও আছে। সব মনা'রা যে এইরকম আর সব মনি'রাই যে এরকম আমি তা বলছিনা। তবে এর পাল্লাটাই ভারি।


ইচ্ছে
আহসান হাবীব

মনারে মনা কোথায় যাস?
বিলের ধারে কাটব ঘাস।
ঘাস কি হবে?

বেচব কাল
চিকন সুতার কিনব জাল।
জাল কি হবে?

নদীর বাঁকে
মাছ ধরবো ঝাঁকে ঝাঁকে।
মাছ কি হবে?

বেচব হাটে
কিন শাড়ি পাটে পাটে।
বোনকে দেব পাটের শাড়ি,
মাকে দেব রঙিন হাঁড়ি।




ইদানিং আবার আরেকদল মনা'দের দেখা যায়।
যেমন-
মনারে মনা, ফেসবুকে যাসনা সোনা
সাদিয়া সুলতানা

মনারে মনা কোথায় যাস?
ফেইসবুকে দিব স্ট্যাটাস।
স্ট্যাটাস কি হবে?

দেখবে সবে,
লাইক হাজারো আসবে তবে।
লাইক কি হবে?

হিট স্ট্যাটাসে
ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট লাখো আসে।
ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট কি হবে?

একসেপ্ট করে,
দেখবো নারী দু’চোখ ভরে।
চ্যাটিং করে জাগবো রাত,
সামনের বছর বৌ-ভাত।