বাবা-মা ছাড়া কিছুই বোঝে না মেয়েটি। ওর নাম মুনিয়া। কেউ দুষ্টামি করেও যদি ওকে বলত-"এই শশুর বাড়ি গিয়ে আমাদের ভুলে যাবি না তো"?? মেয়েটি যেন সে কতা শুনেই নি এমন ভান ধরে এড়িয়ে যেত। আবার বাবা-মাও ছিল ওকে ছাড়া অচল। ও ঘরে না থাকলেও ঘরটা মনে হত যেন বিরান মরুভুমি। .....
বর্ষার এক সন্ধ্যায় ওদের ঘরে আসে পালাই ঘটক। কথার ঝুড়ি সাজিয়ে ম্যানেজ করে মুনিয়ার বাবা-মাকে। বিশাল আয়োজনে বিয়ে হয় মুনিয়ার। বাবা-মার কুখ্যাত মদ্যপ ছেলের সাথে। শ্বশুর বাড়িতে পা রেখেই বুঝতে পারে এটা একটা অন্য জগত। সারাদিন কাজ কর, তারপরও বউয়ের নামে ছেলের কাছে নালিশ! মদ্যপ ছেলে আর শাশুরি মিলে অচ্যাচার। ক্রমেই মেয়েটার শারিরীক আর মানিসক স্বাস্থ্যর অবনতি।
পরের বর্ষায় মেয়েটা একেবারে শয্যাশায়ী। মেয়েটা তার মায়ের বিছানায় শুয়ে থাকে। কোন কিছু তার ভাল লাগেনা। ভাল লাগেনা তার প্রিয় বাবা-মা'র চোখে পানি দেখতে। যদিও তার নিজের চোখে শ্রাবনের বারিধারা। শুয়ে শুয়ে মুনিয়া ভাবে- " হয়রে জগত! তোমার ভেতরে আবার কত জগত"?? কোন কিছুই মুনিয়াকে তুষ্ট করতে পারেনা। শুয়ে শুয়ে মুনিয়া শুধু তাকিয়ে থাকে ঘরের পাশে ফুঁটে থাকা চালতা ফুলগুলির দিকে!! নিঃসঙ্গ অবস্থায়.............................
মন্তব্য (13)