::::::ছবি: সংগৃহীত::::::::::

অনেক দিন পরে একটা অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন এলো। অামার মোবাইলে সাধারণত ভুলেও কোন wrong নম্বর থেকে কোন ফোন আসেনা।

হ্যালো, বলেই আমি কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম। ওপাশ থেকে কেমন যেন একটা হাজার জনমের পরিচিত দুষ্টামির কণ্ঠস্বর ভেসে আসছিল কিন্তু আমি আঁচ করতে পারছিলাম না।

তবুও বলে যাচ্ছিলাম যে আমার আন্দাজ যদি ঠিক হয় তবে তুমি মুমু বলছ।

আমি ওপাশ থেকে মুমুর অবিরত অশ্রুধারার টের পেলাম। মুমু আনণ্দে কাঁদছে। সে তার আবেগ ধরে রাখতে পারেনি..
তাইতো সে তার প্রিয় বন্ধুর সাথে কাঁদছে।

কিছুক্ষণ পর আমি বললাম-
মুমু- আমার নম্বরটা তুমি অনেক কষ্টে পেয়েছো, তাই না?
হ্যা, বলল মুমু।

আমি আবার বললাম- আমরা সবাই এলোমেলো হয়ে যাবার পরে অনেকের নাম্বারই এরকম কষ্টে যুগিয়েছিস তারপর ফোন করে সারপ্রাইজ দিবি ভেবেছিলিস, কিন্তু কেউ হয়তো তোর কণ্ঠশুনে তোকে চিনতে পারেনি, তাই না?

এবার নরম গলায় আবার শুধু হ‌্যা বলল মুমুটা।

তারপর বললাম- সে জন্য তুই দুঃখ পেয়ে কাঁদছিস?

মুমুটা এবার বলল- না।

তবে কেন পাগলির মত কেঁদেছিস?

তুই যে আজ তোর মুমুকে চিনতে পেরেছিস এবং আগের মত আমাকে তোর প্রিয় নামে ডেকেছিস এজন্যই আমি আনন্দে কাঁদছি।

আমি স্তব্ধ হয়ে গেলাম, গেলাম বাকরুদ্ধ হয়ে।
মনে মনে ভাবলাম মুমুটা আজও আমাকে কতটা হৃদয়ের গভীরে রেখেছে!

আমার কোন ক্ণ্ঠস্বর না পেয়েই মুমুও অনেক কিছু বুঝতে লাগল আর আমাকে এইটুক বলল- পৃথীবীর সবচেয়ে বড় স্বান্তনা যখন তুমি আমাকে ''মুমু'' বলে ডাক।

আজ সারা দিন আমি মুুমু- অঝোরে সেই আনন্দে আন্দোলিত হয়ে কাঁদব।
আজ শ্রাবণ আসুক, বাদল আসুক- তবুও আমি অঝোরে কেঁদে যাব আর আজীবন এই নাম ডাকটি শুধু তোমার মুখ থেকে শোনার অপেক্ষায় থাকব।