তোমার হাসির দামে ছেড়ে দিলাম দিল্লীর একচ্ছত্র অধিশ্বর ।
যেখানে লক্ষ বছরের প্রবাহমান নীল নদ,
আমি সে মিশরকেও নিলামে দিলাম তোমাকে পেয়ে !
তোমার মুখখানি
যেন গভীর নিশিথে ব্যস্ত মেঘের কোণে সৌজল সোনা চাঁদ !
তোমার অধর যেন পদ্ম পুকুরে ফুঁটে থাকা রক্ত কমল !
তোমার হাসি যেন স্রোতের কল্লোলে ভেসে আসা নবঢ়া ভোর-
তুর্কীস্তানী ঠোঁটের কালো তিলে, যত বিভোর প্রহর !

তোমাকে দেখে দুহাতে ঠেলে দিলাম ইরানের সোনালী সম্ভার ।
যেখানে সহস্র বছরের পাষানেরা করে আয়োজন,
আমি সে লোহীত সাগরকেও নিলামে দিলাম তোমাকে পেয়ে !
তোমার দেহ
যেন শরতের জলে তীর ভুলে ভেসে আসা সোনার তরী !
তোমার চোখ যেন নীলাম্বরে হাজার বছরের সুনীল সিক্ত দুটি তারা !
তোমার কান্না যেন পাহাড়ের পাজড় ভেঙে নেমে আসা অপার নিঃস্রাব-
সাইবেরিয়ার বরফগলা হৃদয়ে, যত প্রণয়ের বিরহ ভাব !

আজ পৃথিবীর তাবৎ ঐশর্য্যকে লুটিয়ে দিলাম তোমার পায়ের পরে ।
যেখানে অজস্র নক্ষত্রের ছড়াছড়ি,
আমি সে আকাশকেও নিলামে দিলাম তোমাকে পেয়ে !
তোমার চাহনী
যেন পৌষের শীতে হায় তুলে জেগে ওঠা সজিব সকাল !
তোমার চুল যেন অমানিশার বুকে আছড়ে পড়া কালের বিভাবরী !
তোমার ভুরু যেন সূর্যক্ষুধায় ক্লান্ত নীড়ের পথে ডানামেলা গাঙচিল-
দারুচিনি কপালের ছোট্ট টিপে, আকাশের যত নীল !


রচনাকাল: ০৪-১২-২০১২