ভোগান্তির শেষ নেই’- শিরোনামে একটি প্রতিবেদন মুদ্রিত হয়েছে বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকায়। ১৩ মার্চ প্রকাশিত প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, সাধারণ মানুষের যাওয়ার যেন কোথাও জায়গা নেই। থানায় গেলে দুর্ভোগের জিডি নেয় না পুলিশ। তদ্বির বা কিছু ধরিয়ে দিলেই আবার সহজে তা মিলছে। একইভাবে চলছে চিকিৎসাব্যবস্থা। হাসপাতালে ভর্তির সমস্যা। ভর্তি হলেও সিট মেলে না। আবার সিট মিললেও সেবা নেই। সন্তানদের জন্য ভাল স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করানো এখন কঠিনতম কাজ। গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি বা সরকারি টেলিফোন সংযোগ সোনার হরিণ। বড় ধরনের তদ্বির বা গোপন সিস্টেমে না গেলে সরকারি কোনো কাজের ধারে কাছেও ঘেঁষা যায় না। একই পরিস্থিতি রেল বা বিমানের টিকেট পেতে। কালোবাজারিরা রেলের টিকিট পেলেও পান না সাধারণ যাত্রীরা। বিমানের টিকিট কিনতে গেলেই শুনতে হচ্ছে টিকিট নেই। অথচ যে ফ্লাইটের টিকিট নেই বলে যাত্রীকে ফেরত দেয়া হলো, সেই ফ্লাইটটি ডানা মেলছে সিট ফাঁকা নিয়ে। আর বাসা থেকে বের হলেও মানুষকে পড়তে হচ্ছে নানা ভোগান্তিতে। বিশেষ করে গণপরিবহনের চরম নৈরাজ্যে সাধারণ মানুষ অসহায়। কোন নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা নেই। ইচ্ছেমত ভাড়া তোলা হচ্ছে গণপরিবহনে। সিএনজিচালিত অটোরিকশাও নিয়ন্ত্রণে নেই। তারা মিটারে গন্তব্যে যায় না। বেশি টাকায় যেতে হচ্ছে যাত্রী সাধারণকে। প্রতিটি ঘাটে এভাবেই চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
পত্রিকার রিপোর্টে সমাজের যে চিত্র পাওয়া গেল তাতে উপলব্ধি করা যায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তির ব্যাপকতা। এ প্রসঙ্গে অতীতের মত বর্তমান সময়েও বিশ্লেষকরা কথা বলছেন। তাদের মতে, সমাজের প্রতিটি স্তরে ঘুষ, দুর্নীতি, ক্যানসারের মত ছড়িয়ে পড়েছে। এ ব্যাধি থেকে নিস্তার পাওয়ার পথ হচ্ছে সমাজ ও রাষ্ট্রের বেশকিছু ক্ষেত্রে ব্যাপক সংস্কার সাধন এবং উন্নয়ন। এজন্য আমাদের রাজনীতিক, মন্ত্রী, আমলা আর দেশের মানুষের মানসিকতার পরিবর্তনের কোন বিকল্প নেই। এমন বিশ্লেষণের সাথে একমত পোষণ করা যায়। মানসিকতার পরিবর্তন যে বর্তমান সময়ে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তাও উপলব্ধি করা যায়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, মানসিকতা পরিবর্তনের আকাক্সক্ষা পূর্ণ হবে কেমন করে? এ বিষয়ে তো আমরা স্পষ্ট করে কোন কথা বলছি না। মানসিকতা পরিবর্তনের বিষয়টি তো আমাদের মনোজগতে ও মস্তিষ্কের সাথে জড়িত। অর্থাৎ আমাদের বুদ্ধিবৃত্তি ও মননশীলতার ক্ষেত্রে এখন পরিবর্তন প্রয়োজন। কারণ বিরাজমান বুদ্ধিবৃত্তি ও মননশীলতা দিয়ে আমাদের বিভিন্ন ভোগান্তির নিরাময় হচ্ছে না। অর্থাৎ এখন প্রয়োজন জ্ঞানগত ও নৈতিক সংস্কার। এমন সংস্কারে আমাদের সমাজ, সরকার ও প্রাগ্রসর নাগরিকরা উদ্যোগী হবেন কী?