www.tarunyo.com

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ

মার্চের রাজণীতি

রাজনৈতিক মাঠে লক্ষ্যণীয় ছিল খালেদা জিয়ার জামিন ও আপীল নিয়ে সরকারের কূটচাল। সরকারি দল ও সরকার যাই করুক বিএনপি ইতিবাচক রাজনীতির মাধ্যমে ময়দানে নিজেদেরকে সমাসীন করতে সচেষ্ট থাকে। এতো বড় বড় ঘটনার পরও বিএনপি হরতাল, অবরোধ, জ্বালাও-পোড়াওসহ যে কোন নেতিবাচক কর্মসূচি থেকে বিরত থাকে। সরকার বিএনপির কালো ব্যাজ ধারন, সাধারণ সমাবেশ, মানববন্ধন, অবস্থান কর্মসূচী ও জনসভার মত ইতিবাচক রাজনীতিকেও বরদাস্ত করছে না। আর এ সুযোগে আওয়ামী লীগ বিভাগ, অঞ্চল ও জেলা সমাবেশের নামে পুরা নির্বাচনী মাঠে শক্ত অবস্থানে। মার্চ মাসে ১৩৭টি রাজনৈতিক ঘটনার তথ্যে নিহতের সংখ্যা ১৩। এই ১৩ জনের ৬ জনই খুন হয় আওয়ামী লীগের হাতে, ছাত্রলীগের হাতে ৩ ও যুবলীগের হাতে ৪ জন। এ মাসে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতায় প্রাপ্ত তথ্যে আহত হয় ২২৯ জন এবং গ্রেফতার অনেক বেশি হলেও ৩২০ জনের খবর পাওয়া গেছে বাকীদের তথ্য প্রকাশিত হয়নি, গ্রেফতারকৃতরা অধিকাংশই বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী এবং দ-প্রাপ্ত ৪৫ জন, এই ৪৫ জনের আওয়ামী লীগের ৪০, ছাত্রলীগের ২, মহিলা লীগের ১ ও জেএমবির ২ জন। মার্চ মাসে প্রাপ্ত তথ্যে নিহত যারা- (১) সিলেটের দক্ষিন সুরমায় আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে মাসুক মিয়া ও (২) বাবুল মিয়া নিহত, (৩) ময়মনসিংহ শহরে আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দলে ছাত্রলীগ সাবেক জেলা সহ-সভাপতি আশফাক আল-রাফী শাওন গুলিবিদ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় মারা যায়, (৪) চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে আইউব আলী নামে একজন খুন হয়, (৫) চট্টগ্রামের বন্দর থানায় আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দলে যুবলীগ কর্মী মহিউদ্দিন খুন ও (৬) খাগড়াছড়ি সদরে মিলনপুর ব্রীজ এলাকায় আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দলে ওয়ার্ড ছাত্রলীগ কর্মী রাসেল শেখ খুন, (৭) চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ছাত্রলীগের হাতে ছাত্রদল নেতা সোহেল রানা খুন, (৮) বরগুনার পাথরঘাটায় পৌর ছাত্রলীগের হাতে আহত ছাত্রদল নেতা আসাদুল্লাহ অবশেষে নিহত ও (৯) গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় ফুটপাথের দখল নিয়ে ছাত্রলীগ-আওয়ামী লীগ লোকদের হাতে ওমর ফারুক নামে একজন নিহত হয় এবং (১০) নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে মাদক ব্যবসা নিয়ে যুবলীগের দলীয় কোন্দলে মোহাম্মদ আলী, (১১) রবিন নামে দুই নেতা খুন হয়, (১২) ইমরান নামে এক কর্মী খুন ও (১৩) নাটোর শহরে যুবলীগের দলীয় কোন্দলে অপর কর্মী সাইফুল শেখ রিপন ওরফে কানা রিপন খুন হয়।
আওয়ামী লীগ : ১ মার্চ ময়মনসিংহের গৌরীপুরে চরশ্রীরামপুর আমির উদ্দিন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষিকা মাহবুবা আক্তারকে স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও আওয়ামী লীগ নেতা আবু সাঈদ মারধর করায় থানায় মামলা করে মাহবুবা আক্তার। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তাকে মারধর করা হয়। ৩ মার্চ ঝিনাইদাহ সদরে শীতারামপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ দু’গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১০ জন। হরিসঙ্করপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল-মাসুম এবং অপর আওয়ামী লীগ নেতা ফারুকুজ্জামান ফরিদের সর্মথকদের মধ্যে সংঘর্ষ পুলিশ মুস্তাফিজুর রহমান ও সুজন হোসেনকে আটক করে। সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ হাওরে বাধঁ নির্মানে গাফিলতির জন্য ১১ পিআইসি সভাপতি ও আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে থানায় জিডি করে পানি উন্নয়ন বোর্ড উপ-সহকারী প্রকৌশলী নিহার রঞ্জন দাস। প্রকল্প সভাপতিগন হলেন- প্রকল্প-১৪ আব্দুল মতিন, প্রকল্প-৫৯ সরোয়ার হোসেন, প্রকল্প-৭৬ আবুল হাশিম, প্রকল্প-৮১ মজবুল মিয়া, প্রকল্প-৮৩ জামাল হোসেন, প্রকল্প-৮৭ ভানু চক্রবর্তী, প্রকল্প-৮৮ রাধারমন সরকার, প্রকল্প-৯০ আব্দুল তায়েফ, প্রকল্প-৯১ বিনয় তালুকদার, প্রকল্প-৯৬ রাধিকা রঞ্জন তালুকদার ও প্রকল্প-৯৭ হরিধন সরকার।
৪ মার্চ শরীয়তপুরের নড়িয়ায় আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দলে আওয়ামী লীগ নেতা ও উপজেলা চেয়ারম্যান এ.কে.এম ইসমাইল হকের গাড়ী, অফিসে হামলা ও ভাংচুর করে দলীয় প্রতিপক্ষ গ্রুপ। সাবেক ডেপুটি স্পীকার শওকত আলী এমপির ছেলে ডাঃ খালিদ শওকত গ্রুপ এবং এ.কে.এম ইসমাইল হক গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষে একেএম ইসমাইল হক, মিজানুর রহমান আলম বয়াতী, আব্দুল জলিল সরদার, আবু আলম মেম্বার ও ড্রাইভার রিপন আহত হয়। বগুড়া পৌর মেয়রের চেয়ার দখল করে পৌর আওয়ামী লীগ সাবেক অর্থ সম্পাদক আব্দুল মান্নান আকন্দ। সকাল পৌনে দশটায় চেয়ারে বসে ২৫ মিনিট চেয়ারে কাটান। অফিস কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুরোধে তিনি চেয়ার ছেড়ে দেন। মেয়রের অফিসের চেয়ারে বসে কর্মকর্তাদের তলব করেন এবং বলেন- “নৌকা দিয়ে তো এই চেয়ারে বসা যাবে না, এ ভাবে দখল করতে হবে”। একই সাথে তিনি ডিসির চেয়ার দখল করার ঘোষণা দেন। ৫ মার্চ নড়াইলের লোহাগড়ায় দিঘলিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দলে নিহত ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা লতিফুর রহমান পলাশ হত্যা মামলার বাদী পক্ষের হামলায় রফিকুল ইসলাম, আহাদ খায়ের, আরব আলী, আজিবর, জামাল শেখ, আশরাফ আলী, ইলিয়াস আলী, মশিয়ার গাজী, আইউব শেখ ও বোরহান শেখের বাড়ী-ঘর হামলা, ভাংচুর, ৩টি ইজিবাইক, হাঁস-মুরগী, গরু, ছাগল, ধান-চাল ও আসবাবপত্র লুট করে দলীয় প্রতিপক্ষ গ্রুপ। এমনকি ঘেরের মাছও ধরে নিয়ে যায়। সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ সীমান্তে কালাইরাগ এলাকায় পাথর কোয়ারীতে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন পাওয়ার টিলার ব্যবহার করে পাথর উত্তলন করায় প্রাণহানিতে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আলী আমজাদসহ ৮ জনের নামে মামলা করে খনিজ সম্পাদ উন্নয়ন ব্যুরো উপ-পরিচালক মামুনুর রশীদ। ঢাকার মিরপুরে ঐতিহ্যবাহী শাহ্ আলী বাগদাদী (রঃ) কামিল মাদরাসায় আব্দুল করীম নামে এক শিক্ষককে মারধর ও শিক্ষক আফজালের বাসায় হামলা। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে জনৈক আওয়ামী লীগ নেতার আত্মীয়, শিক্ষকদের জেষ্ঠ তালিকায় ১২ নম্বরে থাকা মৌলভী কেএম সাইফুল্লাহকে দাপট দেখিয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দিলে শিক্ষকদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া হয়। পরে এক আবেদনের প্রেক্ষিতে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড শিক্ষক আব্দুস সামাদকে দায়িত্ব দিলে আওয়ামী লীগের লোকজন এ ঘটনা ঘটায়।
৬ মার্চ গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে জাতীয় সংসদের উপ-নির্বাচনে জাতীয় পার্টির পথ সভায় হামলা করে আওয়ামী লীগ। এ সময় টেবিল চেয়ার ভাংচুর করাসহ আহত হয় ৩ জন। সিলেটের দক্ষিন সুরমায় আওয়ামী লীগ দু’গ্রুপের সংঘর্ষে বরইকান্দি ইউনিয়নের ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগ সহ-সভাপতি মাসুক মিয়া ও যুবলীগ নেতা বাবুল মিয়া নিহত হয়। বরইকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি গৌস মিয়া এবং কোম্পানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা কাজী আলফু মিয়ার সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের সময় আলফু মিয়ার লোকদের গুলিতে ২ জন মারা যাওয়া ছাড়াও ৩০ জন আহত হয়। ৭ মার্চ সিলেটের জৈন্তাপুরে নিজপাট মৌজার ৪ কোটি টাকা মূল্যের সরকারী জমি অবৈধ ভাবে বেচাকেনা করার দায়ে উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারন সম্পাদক লিয়াকত আলীসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করে মুক্তিযোদ্ধা নূরুল ইসলামের ছেলে মনির আহমেদ। নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার পুটিমারী ইউনিয়নে ১০ টাকা কেজি খাদ্যবান্ধব চাল বিতরণে অতিরিক্ত ২০ টাকা করে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ইউনিয়নে ছাদুরারপুল পয়েন্টে ডিলার ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি মুকুল হোসেন আব্দুল্লাহ্ এই টাকা নেয় বলে অভিযাগ। মেম্বার মানিক চন্দ্র ও কাঞ্চন অধিকারী টাকা নেয়ার কথা স্বীকার করে। ১০ মার্চ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরে বাগডাঙ্গা গ্রামে গত দু’দিন ধরে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সময় বোমা বিস্ফোরণে বাবু গ্রুপের সমর্থক আইউব আলী নামে একজন খুন এবং আরিফুলসহ অপর ২ জন আহত হয়। আওয়ামী লীগ নেতা আলম গ্রুপ ও বাবু গ্রুপের দ্বন্দ্বে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
৮ মার্চ ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগ সাবেক সহ-সভাপতি আশফাক আল-রাফি শাওন আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দলে জেলা পরিষদের সামনে গুলিবিদ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। আওয়ামী লীগ নেতা ও ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান এমপি গ্রুপ এবং ময়মনসিংহ পৌর মেয়ার ও অপর আওয়ামী লীগ নেতা ইকরামুল হক টিটু গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। শাওন টিটু গ্রুপের সমর্থক। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি শাওন আহত হয়।
পুলিশ নিহত শাওনের বন্ধু সাবেক ছাত্রলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক সঞ্জয় দত্ত, এস.এম আরিফুল হক ওরফে পিচ্চি আরিফ ও আমিনুল ইসলাম হিমেলকে আটক করে। বরিশালের আগৈলঝাড়ায় গৈলা বাজারে ব্যবসায়ী বঙ্কিমকুমার শীল বাড়ী যাওয়ার পথে উপজেলা আওয়ামী লীগ সাবেক সাধারন সম্পাদক আব্দুর রইচ সেরনিয়াবাতের ছেলে পিয়াল সেরনিয়াবাত ইট দিয়ে পিটিয়ে আহত করে। ৯ মার্চ মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলা আওযামী লীগ সহ-সভাপতি সেলিম মোল্লা ও তার ছেলে উপজেলা ছাত্রলীগ সাধারন সম্পাদক রাজিবুল ইসলামসহ অন্যান্যরা ব্যবসায়ী জাফর ইকবাল ও তার বন্ধু মিরাজ গাজীকে ঢাকার তেজগাঁও বিজ্ঞান কলেজের সামনে থেকে ৪৫ লাখ টাকা মুক্তিপণের জন্য মাইক্রবাসে অপহরণ করে। অপরহণকারীরা মুক্তিপণ বাবদ ২ লাখ ৮৫ হাজার টাকা নিয়েও তাদের মুক্তি দেয়নি। পুলিশ ১২ মার্চ সেলিম মোল্লা ও রাজিবুল ইসলামসহ ৪ জনকে আটক করে এবং তাদের কাছ থেকে মুক্তিপণের ২ লাখ ৮৫ হাজার টাকা উদ্ধার করে। ১০ মার্চ ফরিদপুরের শালথার গট্টি এলাকায় আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষ, ২০টি বাড়ী-ঘর ভাংচুর করা হয়। আওয়ামী লীগ উপজেলা সভাপতি আয়মন আকবর চৌধুরী বাবুলের সমর্থক গট্টি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নূরু মাতুব্বর এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারন সম্পাদক আব্দুল ওয়াদুদ মাতুব্বরের সমর্থকদের সাথে সংঘর্ষে ৪০ জন আহত হয়।
১৩ মার্চ ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি একরামুল হক হত্যা মামলায় আওয়ামী লীগসহ তাদের অঙ্গ সংগঠনের ৩৯ জনের ফাঁসি এবং প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা অর্ধদ-ের আদেশ দেয় জেলা ও দায়রা জজ অনিসুল হক। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলো- জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবীর আদেল, ফুলগাজী উপজেলা যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক জাহিদ চৌধুরী, ফেনী পৌর সভার সাবেক কাউন্সিলর ও পৌর ওয়ার্ড সভাপতি আব্দুল্লাহিল মাহমুদ শিবলু, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদকের বড় ছেলে আবিদ, এমরান হোসেন রাসেল, জিয়াউর রহমান বাপ্পী, আজমীর হোসেন রায়হান, শাহ জালাল উদ্দিন শিপন, নূর উদ্দিন মিয়া, আব্দুল কাইউম, সাজেদুল ইসলাম পাটোয়ারী সিফাত, জাহিদুল হাশেম সৈকত, আবু বক্কর সিদ্দিক, আরমান হোসেন কাউসার, চৌধূরী মোহাম্মদ নাফিজ উদ্দিন অনিক, জাহিদুল ইসলাম, ফেরদৌস মাহমুদ খান হিরা, সজীব, ইসমাইল হোসেন ছুট্টু, পাংকু আরিফ হুমায়ুন, জসিম উদ্দিন নয়ন, মামুন, সোহান চৌধুরী, মানিক, কামাল উদ্দিন মাহমুদ, টিটু, নিজাম উদ্দিন আবু, রাহাত মোহাম্মদ এরফান, টিপু, আরিফ ওরফে নাতি আরিফ, রাশেদুল ইসলাম রাজু, রুবেল, বাবলু, শফিকুর রহমান মায়া, ফারুক, একরাম হোসেন আকরাম ও মহিউদ্দিন আনিস। মামলার অভিযোগ থেকে খালাস পাওয় ১৬ জন হলো- প্রধান আসামী বিএনপি নেতা মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী মিনার, পৌর যুবলীগ সাবেক আহবায়ক জিয়াউল আলম মিষ্টার, কাজী শানান মাহমুদ, আলমগীর ওরফে আলাউদ্দিন, সাইদুল করীম পাপন, জাহিদ হোসেন ভূঁঞা, বেলায়েত হোসেন পাটোয়ারী, মাসুদ, আব্দুর রহমান রউফ, ইকবাল, সাখাওয়াত হোসেন, শফিকুল জামিল পিয়াস, আব্দুল কাদের, কালা মিয়া, ইউনুস ভূঁঞা শামীম এবং রিপন। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২০ মে একরামুল হককে হত্যা করে আসামীরা। এ মামলায় ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত ১৭ জন আমাসী সব সময়েই পালাতক ছিল।
১৩ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ব্যাপক ভোট কাটাকাটি, জাল ভোট ও কেন্দ্র দখলের প্রতিবাদে জাতীয় পার্টির প্রার্থী রেজওয়ান আহমেদ নির্বাচন বর্জন করে। তিনি অভিযোগ করে ৭৪টি কেন্দ্রে মধ্যে ওনার বাড়ীর কেন্দ্র ছাড়া সব কেন্দ্র আওয়ামী লীগ দখল করে নেয়। ১৪ মার্চ গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে জাতীয় সংসদের উপ-নির্বাচনে প্রচারণা চলাকালে জাতীয় পার্টির নেতা ব্যারিস্টার শামীম হায়দারের গাড়ী ভাংচুর করে আওয়ামী লীগের লোকজন। এ সময় হামলায় ৮ জাপা কর্মী আহত হয়। ১৭ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দলে ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগ নেতা মনির হোসেন আহত হয়। আখাউড়ায় বঙ্গবন্ধুর জন্ম দিবসের আলোচনা সভায় মোগড়া ইউপি চেয়ারম্যান ও সাবেক উপজেলা যুবলীগ আহবায়ক মনির হোসেনের বিরুদ্ধে দলীয় শৃংখলা ভঙ্গের অভিযোগ এনে তাকে অনুষ্ঠান থেকে চলে যাওয়ার আহবান জানালে তিনি না যাওয়ায় উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-আহবায়ক আবুল কাশেম ভূঁইয়া ও উপজেলা যুবলীগ আহবায়ক তাকজিল খলিফাসহ অনেকে বের হয়ে যান। এ নিয়ে উত্তেজনার এক পর্যায়ে মনিরকে লাঞ্ছিত করে নেতা-কর্মীরা। নেত্রকোনার পূর্বধলায় বঙ্গবন্ধুর জন্ম বার্ষিকী পালন অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম সুজন এবং স্থানীয় এমপি ওয়ারেছাত হোসেন বেলাল বীর প্রতীক গ্রুপের মধ্যে এই ঘটনা ঘটে। এ সময় সেখানে চেয়ার-টেবিল ভাংচুর, বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবি ছিড়ে ফেলা হয়।
বিষয়শ্রেণী: অভিজ্ঞতা
ব্লগটি ১০৭ বার পঠিত হয়েছে।
প্রকাশের তারিখ: ১৫/০৪/২০১৮

মন্তব্য যোগ করুন

এই লেখার উপর আপনার মন্তব্য জানাতে নিচের ফরমটি ব্যবহার করুন।

Use the following form to leave your comment on this post.

মন্তব্যসমূহ

 
Quantcast