www.tarunyo.com

লগইন

-- অথবা --
তারুণ্য লগইন

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ

Bookmark and Share

বিষয়শ্রেণী

নিয়মিত সদস্য

সেরা মন্তব্যকারী

নতুন সদস্য

ভারসাম্যহীন ক্ষমতা

আর কতকাল সংবাদের শিরোনামে চাপাতি বদরুল আর তুফানের অপর্কমের কাহিনী মুদ্রিত হবে? চাপাতি বদরুল প্রকাশ্য দিবালোকে সিলেটের কলেজছাত্রী খাদিজাকে কুপিয়ে রক্তাক্ত করে দিয়েছিল। বদরুলের বিচারের রেশ কাটতে না কাটতে গত ২৯ জুলাই শুক্রবার বিকালে বগুড়ায় কলেজে ভর্তি করে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক ছাত্রীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করেন বগুড়ার শহর শ্রমিক নেতা তুফান সরকার। শুধু তাই নয়, এই ছাত্রী ও তার মাকে বেদম পিটুনি দিয়ে মাথা ন্যাড়া করে এই নরঘাতক। খুন, চাঁদাবাজি, মাদকব্যবসা, দখল সব কিছুই যেন তার কাছে মামুলি ব্যাপার। ২০১২ সাল থেকে এ পর্যন্ত, হত্যাচেষ্টা, মাদকব্যবসা ও চোরাচালানের ছয়টি মামলার আসামী তুফান। তবে একজন তুফান সরকারের তুফান সৃষ্টির ক্ষমতা গণমাধ্যমে প্রকাশের পর ক্ষমতাসীন দলের নেতা-নেত্রীদের কপালে ভাঁজ পড়েছে। সরকারের কাছে দেশের হাজারো মানুষের জিজ্ঞাসা এত কম বয়সে কী করে অর্থ-বিত্তের মালিক হলেন তুফান সরকার? মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী আওয়ামী লীগ এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের নাম যখন ধর্ষক হিসেবে সংবাদের শিরোনাম হয় তখন সত্যিই মনে দাগ কাটে। দেশের প্রতিটি রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের কাছ থেকে জাতি উত্তম চরিত্র আশা করে। রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে নিজ দলের কর্মীদের অপর্কম অন্যদলের উপর চাপিয়ে দেয়া মোটেও উচিত নয়। অপরাধী যে দলের হোক তার শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তুফান কোন দল করে এটা বড় কথা নয়! সে আত্মস্বীকৃত অপরাধী দুষ্কৃতকারী। আওয়ামী লীগ তুফানকে অস্বীকার কিংবা বহিষ্কার করলেই কি মা-মেয়ে তাদের হারানো ইজ্জত ফিরে পাবে? সমাজ ও রাষ্ট্রে যখন আইনের শাসনের ব্যতয় ঘটে তখনই কেবল বদরুল তুফানরা জন্ম নেয়। তুফানরা তো ধর্ষক হয়ে জন্মায় না। তারা তো কোন না কোন এক মায়ের সন্তান। জন্মধাত্রীকে তো দোষ দিয়ে লাভ নেই। কারণ তুফানকে ধর্ষক হওয়ার উৎসাহটা কারা জুগিয়েছে তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। কোন অদৃশ্য শক্তির জোরে প্রকাশ্যে তুফানরা নারীর ইজ্জত লুটে নেয় তা আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর উদঘাটন করা জরুরী। উন্নয়নের মহাসড়কে জনগণের ভাগ্যের উন্নয়ন না হলেও ধর্ষণের জোয়ার বইছে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া। দেশের পরিস্থিতি কেমন তা বুঝার জন্যে বেশি জ্ঞানী হওয়ার দরকার নেই, মা-মেয়ের একসঙ্গে নির্যাতিত হওয়ার ঘটনাটি চোখে আঙ্গুল দিয়ে আইনের শাসনের বাস্তব চিত্র জাতির সামনে আবারও উন্মোচিত হয়েছে।
পত্রিকার পাতায় ধর্ষণের শিরোনাম আর দেখতে ইচ্ছে করে না। প্রতিনিয়ত ঘুমানোর আগে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি আগামীকালের দিনটা যেন সুন্দর ও ভালো হয়। কিন্তু কোথাও শান্তি স্বস্তির খবর ততটা মুদ্রিত হয়নি যতটা না ধর্ষণের হয়। একের পর এক অপকর্ম, দুনীতি, দুঃশাসন, ধর্ষণের বিভীষিকায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে দেশের মানুষ। মানুষের অবস্থা দিনকে দিন খারাপ থেকে আরো খারাপতরের দিকে যাচ্ছে। বিশেষ করে নারীর প্রতি সহিংসতার মাত্রা ভয়াবহরূপ ধারণ করেছে। নারী ও শিশু ধর্ষণের বিরাজমান চিত্র আতংকিত করে তুলেছে অভিবাক থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিকদের। প্রতিয়িত দেশের কোথাও না কোথাও তরুণী, কিশোর বা শিশুকে মানুষরূপী দানবেরা ধর্ষণ করছে। বিচার চাইতে গিয়ে ধর্ষিতা ও তাদের স্বজনরা কখনও কখনও আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর হাতে নিগৃহীত হওয়ার খবরও প্রকাশিত হচ্ছে। আবার ক্ষমতার দাপটের কারণে প্রভাবশালীদের অপকর্মের কথা ভুক্তভোগীরা বলতে পারছে না। ধর্ষকের সাজা যাবজ্জীবন কারাদন্ড বা মৃত্যুদন্ডের বিধান থাকলেও মানুষরূপী হায়েনাদের লালসার শিকার থেকে রেহাই পাচ্ছে না তিন বছরের শিশু থেকে শুরু করে ৮০ বছরের বৃয়োবৃদ্ধরা। এক দেশে তো দূরকম আইন থাকা উচিত নয়! কোথায় ঘুমিয়ে আছে মানবাধিকারের বিবেক, কোথায় ওপারের চেতনা ব্যবসায়ীরা, কোথায় সুলতানা কামাল, আর কোথায় ইমরান সরকারের শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের নেতা-নেত্রীরা। তোমাদের বিবেক আজ কেন জাগ্রত হচ্ছে না এটা জাতি জানতে চায়? ’৭১ সালের ধর্ষণকারীদের শাস্তির জন্যে মাসের পর মাস শাহবাগের রাস্তা বন্ধ করে আন্দোলন করছো অথচ আজ ৩ বছরের শিশু তানহা এই রাজধানীতে ধর্ষিত হয়ে মৃত্যুর মিছিলে সামিল হচ্ছে। কিন্তু তোমরা তার বিচারের দাবিতে গণজাগরণ তো দূরের কথা একটু টুঁশব্দ পর্যন্ত করার সাহস করোনি। তোমাদের মতলবটা জনগণ বুঝে গেছে?
দেশের বিরাজমান পরিস্থিতির জন্য বিরোধীদল বা জোটের দোষ এখন আর ক্ষমতাসীনরা দিতে পারছে না। কারণ বিএনপি বা জামায়াতের সংবাদ এখন আর কাউকে আলোড়িত করে না। বরফের চেয়ে বেশি ঠান্ডা অবস্থানে বিরোধীজোটের রাজনীতি চলছে। কথায় আছে অভ্যাস মানুষের দাস। আওয়াম লীগের অবস্থাও তাই হয়েছে। রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে জামাত বিএনপিকে রাজনীতির মাঠ থেকে বিতাড়িত করতেই দেখামাত্র গুলীর ব্যবস্থা তারা নিয়েছে। বিরোধী জোট যখন আন্দোলনের গর্তে ঠিক তখন তারা ক্ষমতার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে খুনাখুনিতে জড়িয়ে পড়ছে। পৃথিবীতে এমন খেলা এখনও আবিষ্কার হয়নি যে খেলা একা একা কেউ খেললে স্টেডিয়াম দর্শকে পূর্ণ হয়ে যায়। ক্রিকেট খেলতে গেলেও তো বাবা দুটিমের প্রয়োজন হয়। তাহলে রাজনীতির মাঠে কেন শুধু এটিম থাকবে? এই বিষয়টি ক্ষমতাসীনদের ভেবে দেখার প্রয়োজন। আওয়ামী লীগের সোনার ছেলেরা এখন বিটিম খুঁজে পাচ্ছে না বলেই তারা নানা অপর্কমে জড়িয়ে পড়ছে। এই সরকারের শাসনামলে গত ৮ বছরে তুফান বদরুলের জন্ম হয়েছে। অনেকেই আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ থেকে বটগাছে পরিণত হয়েছেন। একসময় যারা টিনের চালের ছাউনির নিচে বাস করতো তারা এখন ৫ তলা, ৬ তলা বাড়িতে এসির রিমোট কন্ট্রোল ছেড়ে ঘুমান। কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পত্তির ভার এখন ক্ষমতাসীনরা বহন করতে হিমশিম খাচ্ছেন বলেই তো সড়ক ও সেতু মন্ত্রী বলছেন ক্ষমতা না থাকলে পালাইবার পথ খুঁজে পাওয়া যাবে না। আমরা চাই না কোন রাজনৈতিক দলের নেতা বা কর্মী পালিয়ে থাকুক। বর্তমানে তো অনেকে বছরের পর বছর ধরে পালিয়ে পালিয়ে জীবনযুদ্ধের পরাজয়ের গ্লানি টেনে বেড়াচ্ছে। এটাতো অস্বীকার করা যাবে না যে, তুফান সরকারদের উত্থানের পেছনে রয়েছে রাজনীতির লম্বা হাত। যে রাজনীতির বিষবৃক্ষের বিষফল বদরুল, তুফান সরকাররা, সেই বৃক্ষকে অটুট রাখলে সমাজ ও রাষ্ট্রকে নিরাপদ রাখা যাবে না এই বিষয়টি যত দ্রুত ক্ষমতাসীনরা অনুধাবন করবেন ততই দেশের জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে। মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের ভাষ্য অনুযায়ী গত জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ৩৭১ জন নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এই সময়ে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে ১২৪ জন। যৌতুকের অভিশাপের শিকার হয়েছে ১২৮ জন। এসিড সহিংসতার শিকার হয়েছে ৩০ জন। তুফান সরকারের তুফান সৃষ্টিকারী প্রলয়ের ওছিলায় শুধু বগুড়ার তুফান বন্ধ করলেই হবে না দেশের আনাচে কানাচে ঘাপটি মেরে থাকা হাজারো তুফানকে আইনের আওতায় আনতে হবে। গোটা দেশেই এখন কান পাতলে তুফানদের গর্জন শোনা যায়। তারপরও বগুড়ার পুলিশ প্রশাসন স্বস্তির পাল আকাশে উড়িয়ে দিয়েছে যা প্রশংসার দাবি রাখে। তারা তৎপরতা চালিয়ে ন্যক্কারজনক ঘটনায় জড়িত ১০ জনের মধ্যে ৯ জনকেই গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। দায়িত্বশীল ভূমিকার পরিচয় দিয়েছেন বগুড়ার ডিসি ও এসপি সাহেব। আইনের হাত যে লম্বা এবং সবকিছুর ঊর্ধ্বে সেটা তারা প্রমাণ করেছেন। প্রশাসনের নেতিবাচক ভূমিকায় মুখ ফিরিয়ে নেয়া সাধারণ মানুষ আজ প্রশাসনকে সাধুবাদ জানাচ্ছে। তাই সরকারকে অনুরোধ করব কোনো ধর্ষক যেন সামাজিক বা রাজনৈতিক পরিচয়ে পার পেয়ে যেতে না পারে। সে বিষয়টি দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে নিশ্চত করা হোক। ধর্ষণকারীদের নির্যাতন বন্ধ করার প্রয়াসে ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্ব সর্বস্তরে চালু করা প্রয়োজন। আমরা আশা করব সরকার উন্নয়নের মহাসড়কে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত করার প্রয়াসে তুফানদের রাশ টেনে ধরবে।
বিষয়শ্রেণী: সমসাময়িক
ব্লগটি ৩০ বার পঠিত হয়েছে।
প্রকাশের তারিখ: ০৯/০৯/২০১৭

মন্তব্য যোগ করুন

এই লেখার উপর আপনার মন্তব্য জানাতে নিচের ফরমটি ব্যবহার করুন।

Use the following form to leave your comment on this post.

মন্তব্যসমূহ

  • ধন্যবাদ প্রিয় ব্লগার । নিবন্ধটি ভাল হয়েছে । দারুণ প্রতিবাদ । এভাবে কলম চলতে থাকুক নিয়মিত ।
  • Tanju H ১০/০৯/২০১৭
    কিছু বলার নেই ।অসাধারন লেখা।
  • প্রিয় ব্লগার,

    আপনার গুরুত্বপূর্ণ নিবন্ধকে সাধুবাদ জানাচ্ছি।আমরা মূলত অন্ধকারে বাস করছি।যে অন্ধকারের মুলমন্ত্র সন্ত্রাসবাদ।