মানুষ মানুষ-ই
নানান ভেদাভেদ নিয়েই মানুষ। তবে মানুষের মাঝে ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, জাতির ভেদাভেদের চেয়ে ধনি গরীবের ভেদাভেদ খুব প্রকট। একজন উচ্চবিত্ত ও একজন নিম্নবিত্তের দিকে তাকালেই ভেদাভেদটা খুব সুন্দর পরিলক্ষিত হয়। আর এ ভেদাভেদকে মারাত্মক রূপ প্রদান করে বর্তমান সমাজের নিকৃষ্ট কিছু ধনী। উচু তলার কিছু মানুষ, সমাজের অবহেলিত হতদরিদ্র মানুষকে মানুষ মনে করে। এইসব উচু তলার মানুষেরা মনে করে গরীবের জন্ম হয়েছে ধনীদের দয়া আর অনুগ্রহের জন্য। একটি উদাহরণ দেইঃ ধান চাষের প্রথম ধাপ ধান বীজ থেকে রোপা উৎপাদন করা। চারা উৎপাদনের ক্ষেত্রে প্রথমে ধান বীজগুলোকে পানিতে ৪-৫ ঘন্টা ভিজিয়ে রাখা হয়। ধান বীজগুলো পানিতে ছাড়ার সাথে ধানের সাথে মিশে থাকা চিটা (অনুপযুক্ত বীজ) পানিতে ভেসে থাকে, আর উপযুক্ত বীজগুলো পানির তলদেশ চলে যায়। এতে কৃষক ঐ ভেসে থাকা চিটাগুলো পানি থেকে ছেঁকে তোলে। এবং এগুলো ফেলে দেয়, এই ভেবে যেঃ এই বীজগুলো দিয়ে চারা গজাবে না। তারপর চিটাগুলোর স্থান হয় কৃষকের বাড়ির পাশের ডোবায়। ডোবার পানিতে ভাসতে ভাসতে চিটাগুলো স্থান পায় পতিত কোনো জমিতে। ঐখানে থাকতে থাকতে কিছুদিন পর অনুপযুক্ত ধান বীজগুলো থেকেও ধানের চারা গজায়। এমনকি এটাও দেখা যায়, ঐ অবহেলিত, অনুপযুক্ত ধান বীজ থেকে গজানো ধানের ১ টি চারায় হলেও কৃষকের আবাদি জমির ১ টি চারার তুলনায় অনেক ভাল ধান উৎপন্ন হয়। মানুষের জীবনটাও ঠিক এমনি। অর্থবিত্তের দাম্ভিকতায় গরীব দুঃখী মানুষকে মানুষ মনে না হতে পারে। তবে সময়ের বিবর্তনে পাল্টে যেতে পারে জীবন নামের তৈলচিত্র। সমাজে এমন অনেক ধনকুবের আছেন, যারা তাদের নিচের স্থানের মানুষকে মানুষ মনে করেন না। এমন বিবেক বর্জিত মানুষদেরকে ক্ষমতা দিক, তারা যেন মানুষকে মানুষ হিসেবেই বুকে টেনে নিতে পারেন - এটাই প্রার্থনা মহান রাব্বুল আলামীনের কাছে।
মন্তব্য (9)