নৈতিকতার স্বরূপ
কোন এক গ্রামের সব মানুষ ন্যাংটা থাকে। ছেলে বুড়ো যুবক যুবতী সবাই ন্যাংটা। চিন্তা হচ্ছে? এটা বাংলাদেশের কোন গ্রান নয় বা ভারতীয় উপমহাদেশের কোন গ্রাম নয়; আমেরিকার একটা গ্রাম। এ গ্রামে সবাই ন্যাংটা। বাইরে থেকে এখানে যারা বিভিন্ন সরকারি দায়িত্ব পালন করতে আসে, যেমন পোষ্ট অফিসের লোক- তারাও ন্যাংটা থাকে। তাই বলে তারা ফ্যাশান থেকে বিরত নয়। তারা হাতে ঘড়ি পরে, হীরের আংটি পরে, মেয়েরা গহনা পরে, চোখে গগলস লাগায়; কিন্তু দেহখানা উদোম। প্রশ্ন হলো- তাদের কি নৈতিকতা বোধ বলে কিছু নেই? ন্যাংটা থাকা কোন ধরণের নৈতিকতা? এটা তো পশুদের কাজ! অথচ তাদের ছেলে মেয়েরা স্কুলে পড়ে!
তাদেরও নৈতিকতা আছে, নৈতিকতার বোধ আছে। সেটা কি? ন্যাংটা হয়ে জীবন যাপন করাই তাদের নৈতিকতা। হয়তো বহু পূর্ব থেকে তাদের এই রেওয়াজ চালু রয়েছে।
এবার আমাদের দেখতে হবে যে নৈতিকতা আসলে কি জিনিস। আমাদের মনের মধ্যে দুটো পরস্পর বিরোধী সত্ত্বা বাস করে। আমরা যাকে বলি বিবেক এবং পশুত্ব। পশুত্ববোধ সব সময় আমাদের নীচ বা অপরাধমূলক কাজে উৎসাহ দেয়, অন্যায় কাজে প্ররোচিত করে। আর বিবেক অন্যায় কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য । চেষ্টা করতে থাকে। বিবেক কোন্ কাজ করা থেকে বিরত রাখতে সচেষ্ট হয়? যে কাজ অন্যায় বলে মনে করে সেটাই সে করতে বাঁধা দেয়। এটাই হলো নৈতিকতা। প্রশ্ন হলো বিবেক কোন কাজকে অন্যায় বলে মনে করে? তার ভালো বা মন্দ কাজ নির্ণয়ের মাপকাঠি কি?
চলতে থাকবে-
Comments (10)