প্রথম প্রথম অনেকের মত আমিও ভাবতা হুমায়ূন আহমেদ নাস্তিক । আমার কিছু বন্ধু হুমায়ূন আহমেদ এর বই এর পাগলা পাঠক থাকলেও নাস্তিক শব্দটা তার বই এর প্রতি আমাকে কখনোই ডাকে নি । একদিন আমার এক বন্ধুর বাসায় বেড়াতে গেছিলাম, কোন বন্ধু ঠিক মনে আসতেছে না এই মুহূর্তে, ওর বাসায় হুমায়ূন আহমেদ এর একটা বই এর কয়েকটা পাতা পড়ে আমি প্রচন্ড মুগ্ধ হই লেখার গভীরতা দেখে।
তবুও তার প্রতি নাস্তিক নাস্তিক মনোভাব তখনো কাটে কি । হঠাৎ ইউটিউব এ তার একটা নাটক দেখি " উড়ে যায় বকপক্ষী ", নাটকটা দেখার পর তার প্রতি আলাদা একটা কৌতূহল কাজ করা শুরু করলো । একে একে তার সব নাটক ই দেখলাম ইউটিউব এ । পরবর্তীতে তার বেশ কিছু ব্যক্তিগত ভিডিও দেখলাম যেগুলা ইউটিউব এ আছে । তার নাটক দেখে আমি বুঝেছিলাম লোকটা আর যাই হোক আল্লাহতে বিশ্বাস করে, এবং ইসলাম নিয়ে তার বেশ কৌতূহল ও আছে,এবং মুসলিম সমাজে যেসব কুসংস্কার আছে সেগুলা তিনি কঠোরভাবে দমন করার ইচ্ছা পোষণ করছেন,যুক্তি এবং আধ্যাত্মিকতার এক অসাধারণ মেলবন্ধন তার নাটকে দেখা গেছে, যুক্তি এবং আধ্যাত্মিকতা দুইটাকেই তিনি সমান প্রাধান্য দিয়েছেন এবং একটাকে অপরটার ওপর প্রাধান্য দেন নি । শেষদিকে তার একটা ব্যক্তিগত ভিডিওতে, (ক্যন্সার হবার পর) ভিডিও টি দেশের বাইরে ধারণ করা, চিকিৎসা চলাকালীন সময়ে তিনি যখন দেশের বাইরে ছিলেন,তখন একটি কুরআন এর উদ্ধৃতি দিয়েছিলেন যে, " নিশ্চই আমি (আল্লাহ) মানুষকে তার ভাগ্য হাড়ের মত তাদের গলায় ঝুলিয়ে দিয়েছি " এবং তিনি তাতে কঠোরভাবেই বিশ্বাস স্থাপন করেন । এবং পরবর্তীতে তার কাজগুলো আমি ইউটিউব এ দেখি এবং মুগ্ধ হই, অসাধারণ সৃজনশীলতা নিয়ে জন্মেছিলেন ।
মন্তব্য (1)