বর্তমান সময়ে তরুণদের একটি বিরাট অংশ আজ থেকে ৪৩ বছর আগে এই ভূ-খন্ডের নিরস্ত্র নাগরিকদের উপর আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধে বিজয় লাভ করার ব্যাপারটি নিয়ে উচ্ছসিত হন। এটি নিসন্দেহে মাতামাতি করার মত একটি বিষয়। একই সঙ্গে বিজয়ের ঠিক বিপরীতে চলে আসে অন্যায় হত্যা,ধর্ষন,ভূখন্ড দখল সর্বোপরি এ ভূখন্ডের মানুষের অস্তিত্ত সংকট সৃষ্টিকারি দলটি যাদেরকে বলা হয় হানাদার বাহীনি।
কেন এই বাহীনি হানাদার বাহীনি? কারন এর আগ্রাসন এ ভূখন্ডের মানুষের অস্তিত্তকে সংকটময় করে তোলেছিল।সে অস্তিত্ত সংকট ছিল সামগ্রিক।
৪৩ বছর আগে এ জনগোষ্ঠির উপর আগ্রাসনের কথায় তরুনদের যে বিপুল অংশ আবেগে আক্রান্ত হন তা এ জনগোষ্ঠির জন্য নি:সন্দেহে মূল্যবান।কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে তাদের অনুভূতির একটি ফাকি নিয়ে।
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরই এ জনগোষ্ঠির উপর আর একটি দল আগ্রাসন চালানো শুরু করে। সে দলটি আমাদের ভূখন্ডের একটি অংশ দক্ষিণ তালপট্রি দখল করে রেখেছে গায়ের জোরে। এমন কোন মাস হয়তো পাওয়া যাবেনা যে মাসে সীমান্তে আমাদের কোন নাগরিক কে তারা হত্যা করেনি।প্রায়ই আমাদের ভূমি দখল করতে চায়। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয়টি হচ্ছে,বাংলাদেশকে মরুভূমি বানানোর চক্রান্ত।পানি আগ্রাসন। যে সবুজ-শ্যামল ভূখন্ডে লাল সবুজের পতাকা একে এ জনগোষ্ঠি বসবাস করবে সেই ভূখন্ডকে চরম অস্তিত্ত সংকটে ফেলে দেয়ার পরিকল্পনায় তারা খুবই তড়িৎকর্মা।
৪৩ বছর আগের একটি আগ্রাসন যাদেরকে আবেগে আক্রান্ত করে তারা তো সেই আবেগ থেকে আরও বেশি আবেগি হওয়ার কথা এখন এই আগ্রাসনে, যখন তারা নিজেরাই এ ভূখন্ডে বর্তমান আছেন এমন অবস্থায় ঘটনাটি ঘটছে!
অথচ তাদের অধিকাংশই বর্তমান বাস্তবতাকে এড়িয়ে যেতে চান। আবার অনেকেই বর্তমান এই হানাদারদের কর্মকান্ডের পক্ষে যুক্তি দেখাতে চান অথচ ৪৩ বছর আগে ঘটে যাওয়া আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিজেকে একনিষ্ঠ প্রমান করতে চান!
এই বিপুল তরুন সম্পদ কি এটা ভেবে দেখবে না যে, ৪৩ বছর আগে এ ভূখন্ডের মানুষের অ
স্তিত্তকে সংকটে ফেলার পরও যারা এর পক্ষে যুক্তি দিয়েছিল কিংবা আনুগত্য করেছিল তাদেরকে তারা কি ভাবেন?
অনুভূতির এ বিস্তর ফারাকের নাম রাজনৈতিক আবেগ। আমাদের চতুর পূর্বপুরুষেরা তরুণদের উপর এ অস্ত্রটি ব্যাবহার করেন খুব সফলভাবেই।রাজনৈতিক আবেগ অতি মূল্যবান একটি বিষয়।কিন্তু এটি নেতিবাচক হয়ে উঠে তখনই যখন কোন বিষয়কে এ জনগোষ্ঠির কল্যানের দৃষ্টিকোন থেকে বিচার না করে কোন একটি রাজনৈতিক দলের অন্ধ আনুগত্যের মাধ্যমে দেখা হয়।
স্বাধীন বাংলাদেশের ভূ রাজনৈতিক অস্তিত্ত সংকট সৃষ্টিকারি হনাদারদের বর্তমান কর্মকান্ডের ফলাফলে ৪০ বছর পর এ দেশের পরিণতি কি হবে? আর সেই সময়ের অনাগত প্রজন্ম পেছনে তাকিয়ে ৪০ বছর পূর্বে আজকে আমাদেরকে কিভাবে বিচার করবে তা একটি আশঙ্কাজনক বাস্তবতা।
আমাদের বিপদে যে সাহায্য করেছে তার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ থাকব।কিন্তু তা নিশ্চই প্রভুভক্ত কুকুরের মত কৃতজ্ঞতা নয়? আর সাহায্যের পর তার কার্যকলাপ যদি হানাদারের মত হয় তাহলে সাহায্যের পেছনে তার উদ্দেশ্য নিয়ে ভাবতে হবে।স্বাধীনতার পর থেকেই এই সাহায্যকারির চেহারাটা হানাদারের মত প্রকাশ পেতে থাকে যা এখন কদর্য রূপ ধারন করেছে। সুতরাং প্রকৃত বাস্তবতা হচ্ছে এটাই যে পরস্পর বিরুদ্ধ ভাবাপন্ন দুটি বড় রাষ্ট্র তাদের পরস্পরকে খন্ডিত করার প্রচেষ্টা থেকেই সম্পূর্ণ নিজের স্বার্থে এ সাহায্য। আর কৃতজ্ঞতা? কত ফেলানি তাদের হাতে ধর্ষাতা হয়ে শেষে জিবনটাই দিয়ে গেছে কৃতজ্ঞতা স্বরূপ তা তো আর পাঠ্য বইয়ের ইতিহাস নয়,আমাদের জীবন্ত বাস্তবতা।
আর ৪৩ বছর আগের সেই হানাদার দলটি পরিচালনাকারি রাষ্ট্রের ব্যাপারটি দীর্ঘ সময় পরে এসে ঝুলে আছে নৈতিক প্রশ্নে।তারা তাদের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত না হলে তারা এখও পরিশুদ্ধ হয়নি।এর অর্থ নিজেকে সাচ্চা মুসলিম ঘোষনা দিয়ে অন্যায় হত্যার চরিত্র তার বদলায়নি। তরুণদের আর একটি বড় অংশ এটিকে এড়িয়ে যেতে চান। অথচ কোন সম্প্রদায়ের সাথে শত্রুতা যেন ণ্যায়বিচার লঙ্ঘনে প্ররোচিত না করে তার সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে আসমানি গ্রন্থে।অন্যায় হত্যা,ধর্ষন এবং ভিন্ন ধর্মাবলম্বি লোকদের উপর জোরজবরদস্তিকারি সেই বাহিনির কার্যকলাপকে মৌন সম্মতি দেয়ার মত নৈতিক দুরবস্থায় থাকা এই তরুনরা কি নৈতিকতা আর ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মহান দায়িত্ব পালন করবেন তা তাদের কাছেই স্পষ্ট নয়।
ন্যয়বিচারক না হওয়া সত্তেও ক্ষমতালোভী ব্যক্তিত্তের শর্তহীন আনুগত্য তরুণদের রাজনৈতিক আবেগের শক্তিকে পঙ্গু করে রেখেছে।এটি আমাদের,তরুণদের লাঞ্চনাদায়ক ব্যার্থতা ছাড়া আর কিছুই নয়।
এ ভূখন্ডের জনগোষ্ঠির কল্যানের দৃষ্টিকোন থেকে রাজনৈতিক আদেশ,উপদেশ,ব্যাক্তিত্ব আর এ ভূখন্ডের বাইরের গোষ্ঠিগুলোর কর্মকান্ডকে যাচাই করার চর্চা এবং তার দৃঢ় প্রকাশের সংস্কৃতি ছাড়া এ থেকে উদ্ধারের পথ নেই।
হয়তোবা অচিরেই অসংখ্য তরুন তাদের রাজনৈতিক আবেগকে দেশের কল্যানের দৃষ্টিতে ন্যায়বিচারের মাপকাঠিতে পরিচালিত করতে সক্ষম হবেন।
মন্তব্য (2)