চোর, চুরি, বিচার ও আমরা

চোরের খনিতে চোরই থাকার কথা। এটা পুরাতন খবর। তবে এখন চোর পিটিয়ে আমরা যে মজা পাই তা অনেক বিনোদন যোগায়। আমরা অনেকেই চোর ধরা মাত্রই পেটাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। শরীরের সর্ব শক্তি প্রয়োগ করে চোরকে একহাত দেখে নেই। কিলঘুষি, লাথি, মুড়া, বেত্রাঘাতের ধুম পড়ে যায়। অথবা আবেগের ঠ্যালায় তাকে গণ পিটুনীতে মেরে ফেলি। কী এমন আর চুরি করেছে সে, হয়ত বা একটা মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ, কিছু টাকা। যাই হোক চোর বলে কথা। চোরকে তো আর এমনি এমনি ছেড়ে দেওয়া যায় না। আমাদের দেশে মসজিদের জুতা চোর, ছিচকে চোর বা পাতি চোরদের বিচার/গণধোলাই/উত্তম-মাধ্যম দিয়ে আমরা নিজেদের খুব সৌভাগ্য বান মনে করি। গর্বে গর্ভবতী হয়ে যাই। ভেবে নেই চোর মুক্ত সমাজ গঠনে একটা বিরাট ভুমিকা রাখলাম। কিন্তু ভাই তা মোটেও ঠিক নয়। ছিঁচকে চোরেরা অভাবের তাড়নায় চুরি করতে বাধ্য হয়। কখনো সফল হয় কখনো বা ধরা খেয়ে আপনার হাতে মার খায়। আবারো চুরি করতে বের হয়। তার চুরি থেমে থাকে না।

অথচ সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে সভ্য সমাজের হর্তা-কর্তা কলমের খোচায় এই চোরের চেয়ে কোটিগুণ বেশি চুরি করছে প্রতিদিন। তারা টাই-কোট পড়ে, দামী গাড়িতে চড়ে, বড় বক্তৃতা দেয়। শতশত চ্যালেনের হেড নিউজ হয় ।তারা সমাজে সুশীল, বিদ্বান, বুদ্ধিজীবি হিসেবে পরিচিত । কলমের খোচায় বা পেশীর দাপটে পুকুর চুরি করে। শুধু পুকুর বলা ভুল হবে, এখন তো নদী চুরি ,সাগর চুরি এমনকি দেশ চুরিও হচ্ছেও। তবে আমরা তাদের পিটাই না বরং উক্ত কলম চোরদের শাস্তি না দিয়ে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেই। বাহ বাহ্ বাহ আমরা কত্তো ভাল মানুষ। এসব শিক্ষিত পুকুর চোরেরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিলাসী জীবন যাপন করে অন্যের হক নষ্ট করে সমাজে হাজারো ছিঁচকে চোরের জন্ম দেয়। আমরা তাদের সম্মান করি।

আমি মনে প্রাণে ঘৃণা করি এই জীবনকে যেখানে জানাশোনা পুকুর চোর- সাগর চোরদেরকেও চোর বলতে পারি না।