সাধুবাবা
সুশান্ত তখন মেস ম্যানেজার। ২৪ জনের মেস।রান্নার লোক দু’জন। একজন কুক আর একজন তার হেল্পার।আর একজন বাসন ধোয়ার মাসি।এই হ’ল মেসের সংসার।এক সকালে বাজার যাওয়ার আগে কুকের হেল্পার অনাথ এসেছে সুশান্তের রুমে গত দিনের বাজারের হিসেব দিতে।তার রুমে অনাথ প্রায়ই আসে হিসেব –নিকেশের ব্যাপার নিয়ে।একটা রুমে সুশান্ত তখন একাই থাকত এবং সেই রুমটিকে যথাসম্ভব সাজিয়ে গুছিয়ে রাখার চেষ্টা করত।হিসেব দিতে দিতে সুশান্তের টেবিলের কাছে দেওয়ালে যে ইংরেজি বছরের ক্যালেন্ডারটি ছিল তার দিকে তাকিয়ে অনাথ বলল -‘সাধুবাবার ক্যালেন্ডারটা কোথায় জোগাড় করলেন?’ক্যালেন্ডারে এক বিশ্ববিখ্যাত মানুষের প্রতিকৃতি ছিল যার সাধুবাবার মত মুখ ভর্তি দাড়িএবং ব্যাকগ্রাউন্ডটা গেরুয়া রঙের।সুশান্ত অনাথের কথা শুনে কিছুক্ষণ কথা বলতে পারেনি,কী উত্তর দেবে ভাবছিল। তারপর বলল –‘তুমি চেন না সাধুবাবাকে?’ অনাথ নিশ্চুপ।সুশান্ত বলে-‘সাধুবাবার নাম রবীন্দ্রনাথ।’ লেখাপড়া না জানা অনাথ রবীন্দ্রনাথকে চেনে না জেনে সুশান্ত কিছুটা অবাক হলেও পরে ভেবে দেখেছে অবাক হওয়ার কিছু নেই।অনাথের সেদিনের কথা এতদিন পরেও সুশান্ত অবাক বিস্ময়ে ভাবে আর মনে মনে বলে অনাথ তার চোখ খুলে দিয়েছে।ভালবাসার এই মানুষটির অনেকগুলি সত্তার কথা জানা থাকলেও এভাবে সে ভাবেনি কখনও ।রবীন্দ্রনাথ প্রকৃত অর্থেই ‘সাধুবাবা’ যা হয়তো কোনোভাবেই ব্যাখ্যা করা যায় না, অনুভব করতে হয় । এই একটি শব্দেই হয়তো তাঁর সামগ্রিক সত্তার অনেকটাই ধরা যায়।
মন্তব্য (6)