স্মৃতিকাতর
আবেগের প্রাবল্য, অনুভূতির আতিশয্যের কোন কমতি নেই। নেই যেটা সেটা হলো প্রকাশমান ভাষা সংগঠনের সময়। আজকাল শৈশব-কৈশরের কথা বড্ড বেশি মনে হয়। খুব সম্ভবত একাকিত্ব মানুষকে স্মৃতিকাতর করে তোলে। টি এস এলিয়টের ভাষায়, “A big crowd is a big loneliness.” মেগাসিটির বাসিন্দা হিসেবে একাকিত্ব থাকাটা অস্বাভাবিক ব্যাপার নয়। সেক্ষেত্রে স্মৃতি হাতড়িয়ে সময় কাটানোর একটা অনুষঙ্গ চাওয়া বিশেষ দোষের কিছু নয়! আবার হতাশা, ক্ষোভ থেকেও মানুষ স্মৃতিকাতর হতে পারে। অতীতের সুখ-স্মৃতির ডানায় ভর করে হতাশার সাগর পাড়ি দেওয়া হতে পারে এক আনন্দময় উদযাপন। আবার ধরাধামে মানবের মূল্য যখন আর অবশিষ্ট থাকে না; শেক্সপীয়ারের ভাষায়, “জীবন সূর্য্য যখন মধ্য গগণ অতিক্রম করে অস্তাচলের দিকে হেলে পড়ে” তখন মানুষ অতীতের সোনালী স্মৃতি খুঁজে বেড়ায়। এন্ড্রু কিশোরের কথা মনে আছে? মৃত্যুশয্যায় তাঁর স্ত্রী তাকে প্রশ্ন করেছিলেন, “কি ভাবছ”? কিশোরের উত্তর ছিল, “ছেলেবেলার কথা ভাবছি”। কিন্তু গানের ভাষায় বলতে হয়, “আমার হয়েছে কোনটা, তা জানে না এ মনটা”! হতে পারে স্মৃতিভান্ডারের বিপুলতার কারণে নস্টালজিয়ায় আক্রান্ত ফেরারি প্রাণ এক আমি! এ থেকে উত্তোরণ চাই না; না চাই অবতরণ আমরণ!
মন্তব্য (5)