বই পড়া না পড়ানো
আমরা বলি, বই পড়া ভাল। অবশ্যই। তবে, কোন বই পড়তে হবে? অবশ্যই ভাল বই। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃ্ত অনেক বই আছে, যেগুলোকে আমরা ভাল বই বলি।পড়তে না পারলেও নাম বলতে পারলেও গর্ববো্ধ করি। যেমন, ডিকেন্সের এ টেল অফ টু সিটিজ অথবা টার্জান ইত্যাদি! এগুলোকি ভালমানের বই? না এগুলো ইউরোপীয়নদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের দলিল! এগুলো পরোক্ষভাবে কুটিল-রাজনৈ্তিক জ্ঞান বিতরনের মাধ্যম। অথবা সত্য ঘটনার প্রতি বিরূপ ধারনা হতে পারে। এ টেল অফ টু সিটিজ ফরাসি বিপ্লবকে ভিন্নভাবে দেখানো হয়েছে।যেমন বিষাদসিন্ধু।ঐতিহাসিক সত্যের সাথে কি হুবুহু মিল আছে? নিশ্চয়ই না! আমরা বই পড়ব সেসব বই যাতে আফ্রিকা এশিয়ানদেরকে বর্বর বা অসভ্য হিশেবে বিবেচনা না করে। অথবা ইউরোপীয়ন বা আমেরিকানদের রঙ চং মাখিয়ে শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করার বই। যেসব বই অহেতুক প্রচারমূলক বা উত্তর-ঔপনেশিকতা ধরে রাখার প্রয়াস-সেসব বই পড়ব না। অথবা যেসব বই শুধুমাত্র প্রচারমূলক। আমরা পড়ব ইংরেজ বা আমেরিকানেরা শোষণ করেছে সেসব বই অথবা গোর্কীর ‘মাদার’ এর মতো বই যাতে দেশপ্রেমের পরিচয় পাওয়া যায়। আমরা পড়ব বিদ্যাসাগরের বই। রবীন্দ্রনাথ বা নজরুল তো থাকলই। আমরা পড়ব ভাল বই, যা সত্য জ্ঞান বিতরন করে-কূটিল জ্ঞান বিতরন না করে।বাস্তবতার সাথে মিল আছে সেসব বই পড়ব। সমাজ সচেতনামূলক বই পড়ব। কোন জাতির আধিপত্য নিয়ে (যা সঠিক নয়) লেখা বই পড়ব না। জন মিল্টন কিন্তু বই পড়তে বলেন নি। বলেছেন ভাল বই পড়তে। ভাল বই যা মনকে সতেজ করে, স্বচ্ছ ধারণা দেয়। সাম্প্রয়দায়িকতা সৃষ্টিমূলক বা বর্ণ বৈষম্যমূলক বই পড়ব না।কোন ধরনের বই পড়বো তা আগেই ঠিক করে নিতে হবে। আমরা ধামাধরাদের বই পড়ব না, পড়াবোও না - ব্যস। এটাই আমার শেষ কথা।
মন্তব্য (8)