মধ্যরাত,
ঘুম
ভেঙে আধো ঘোরে জানালা দিয়ে দূরে তাকিয়ে অবাক
ঐ চন্দ্র দেখে ।
নিজে নিঃস্ব, তবু দাবানল দহন ।
নিজের ছায়াতে নিজেই অবাক ।
পৃথিবীর বুকে কোন এক অবাক
প্রাণি ।মৃত্তিকা বিনির্মাণ বিনম্র
বিন্দুতে দাড়িয়ে নিজের
অস্তিত্বে সন্দিহান ।দূর দ্বীপ
জলের খেলা তার মাঝে পথিকের
ভেলা ।
আধারে তীর্থযাত্রি আমি একা ।
পথ
দ্বিরুক্তের স্বরে ধাবমান পথিকের
চলা ।
ওপারে হাহাকারের চাঞ্চল্য
আভা শুধু আমি ছাড়া ।
কারো নিয়ন
আলো কারো নিয়ত মাটির প্রদীপ
।
দীপ্ত শিখা হারিয়ে দিশা ছুটে যায়
দিগ্বিদিক আমি সৈনিক ।দিব
ক্ষিপ্ত
ছোবল ঐ দেখ, দেখ পাথরের
অবয়ব
সবল ।
এই যে মানব মনের আবেগের
ঝঞ্ঝাল
।
বলি পথিকের কথা
শতবছরের হিসেব মিছে, নয়
তো হাজার বছরের পথ চলা ।
আমি চলেছি পথ পিছনে ফেলে সব
সুখের টান, দুঃখের বাঁধন ।শৈশবের
কোমল হাত, মায়ের আদরে ছিল
স্বাদ
।
একদিনের রণ হুংকার, আমি যুবক
ভেঙে দেব সব শিকল স্তবকের
ধিঙ্কার ।মানবীর মাটির দেহ
স্পর্শ
করে দেখি আগুনের ফুল্কি, এ
অন্য
রকম সুখ কি?
তবু চলেছি পথ পথিক নয়,
প্রকৃতির
নিয়মে ।
এক পড়ন্ত বিকেল বেলা,
চশমা খুলে,
আকাশের
দিকে তাকিয়ে ,ঝাপসা আধার
বসবাসের ইঙ্গিত দুচোখে ।
বার্ধক্যের ভাঙা শেকল
আজ দু'পায়ে তাই আমি অশোভিত
বন্দী ।
দূর অতীতের আগামি,আগামীর
বর্তমান একজোড় হয়ে ক্লান্ত
হুংকারে নিজেকে অসহায়
করে বলে,
পথিকের পথ আজ শ্রান্তির পথে ।
বিলীন দগ্ধ নৈমন্তিক
ভাবনা নিজের
ছায়ায় আজো খুজে পায়নি মায়া ।
বন্ধন বধির হয়ে বাস্তবের
আঙিনায়
ধুঁকে ধুঁকে মরে ।
পথিক পথের
অন্তরালে প্রতিবিম্বের
প্রতিচ্ছবি হয়ে ভবঘুরের
অবসানের
প্রতিক্ষায়...
মন্তব্য (6)