পথচারীদের কপালে বিরক্তির স্বচ্ছ রেখা দেখে সেদিন নিজ উদ্যোগেই এক মটরসাইকেল আরোহীকে থামাই। লোকটার অবয়বে ক্রোধের চিহ্নমাত্র নেই দেখেই থামিয়েছিলাম। খুব বিনয়ের সাথে জানতে চাইলাম-ভাই! এটাতো পায়ে হাঁটা লোকদের পথ। মটরটা নিয়ে কেন উঠে পড়েছেন? একটু হাসি হাসি মুখ করে বললাম- আমার জায়গায় যদি আজ আপনি হতেন। এই প্রশ্নটা কী আপনার মনে জাগত না। লোকটা বত্রিশটা দাঁত বের করে আদেল মার্কা হাসির সাথে উত্তর দেয়-সবাই উঠছে তাই দেখে আমিও। বললাম-কাজটা যে ভুল করছেন এটা বুঝতে পারছেন? লোকটা যথারীতি দাঁত কেলিয়ে-হ্যাঁ তা তো ঠিক। একটু আগে-ভাগে যাবার চেষ্টা আর কী। বললাম-আপনার চাকা আছে তাতেই এই কথা বলছেন। তাকিয়ে দেখুন ঐ মানুষগুলোর দিকে। যারা হাঁটছে তো হাঁটছে। কারো কারো কাঁধে মস্ত বড় ঝুলি। তাদের জীবনে কী কোনো তাড়া নেই? লোকটার যথারীতি দাঁত কেলানি চলছে। আসলেই তো এর কোনো উত্তর সে কেন, কোনো মটর সাইকেল আরোহীর কাছেই নেই। সবার উত্তর একটাই। সবাই যাচ্ছে তাই আমিও। কিন্তু এই সবাইটাই যে একের সমষ্টি সেটুকু বোধের অন্তরালে। কিংবা বোধে আছে বাক্সবন্দি।
আমাদের আবার একটা খারাপ অভ্যেস আছে। কোথাও ঠেকে গেলে কিন্তু আমরা সব পারি। এমনিতে মনে হয় কে আটকাবে তাদের। বহুদিন থেকেইতো ফুটপাত জুড়ে মটর সাইকেল চলছে তো চলছে। একবার উদ্যোগ নিয়ে সমবেতভাবে আটকান। দেখুন কী হয়।
মন্তব্য (11)